জামিয়ার তারবিয়াতি নেযাম
জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম কুতুবখালী ঢাকা তার প্রতিটি সন্তানকে ইলম শিক্ষাদানের পাশাপাশি ঈমান আকিদা সংরক্ষণ, আমলি জিন্দেগি তৈরি, জীবনের সর্বক্ষেত্রে সুন্নতের অনুসরণ, উন্নত চরিত্র গঠন ও আদর্শ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ ও কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়ে থাকে। ছাত্রদের তারবিয়তি উন্নতির জন্য নিচের কার্যক্রমগুলো নিয়মিত বাস্তবায়ন করা হয়ে থাকে।
১. দৈনন্দিন পালনীয় : দৈনন্দিন বাদ ফজর ও বাদ আসর ফাযায়েলের তালিম ও ওজায়েফ আদায় করা, বাদ ফজর সুরা ইয়াসিন, বাদ মাগরিব সুরা ওয়াকিয়াহ, বাদ এশা সুরা মুলক তেলাওয়াত। এশরাক, আওয়াবিন ও তাহাজ্জুত, প্রত্যেহ সম্ভব না হলেও কমপক্ষে কিয়ামুল লাইল পড়ে ঘুমানোর ব্যাপারে উৎসাহিত করা হয়।
২. সাপ্তাহিক পালনীয় : প্রতি সপ্তাহে শুক্রবার রাতে (বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত) তাহাজ্জুদের আমল, যিকির, দোয়া ও শুক্রবারে সুরা কাহাফ তেলাওয়াতসহ বিশেষ আমলে অভ্যস্থ করানো হয়।
৩. প্রতি সাপ্তাহে আসাতিযায়ে কেরামের মাধ্যমে ইসলাহি ও তারগিবি আলোচনা শুনানো হয়।
৪. মাসিক আমল : প্রতি মাসে আমলি জযবা তৈরির উদ্দেশ্যে ছাত্র শিক্ষকদেরকে দেশের বিভিন্ন বুজুর্গ আলেমদের নসিহত শুনানোর জন্য মাসিক ইসলাহি মজলিসের ব্যবস্থা করা হয়।
৫. নামাজের বাস্তব প্রশিক্ষণ : বছরে একাধিকবার ছোট-বড় সকল ছাত্রের নামাজ সুন্নত মোতাবেক হওয়ার জন্য বাস্তব প্রশিক্ষণ দেয়া হয়।
৬. কানুনের মজলিস : বছরের প্রথম দিনই বিশেষ একটি অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে জামিয়ার সকল উস্তায ও ছাত্রদের উপস্থিতিতে মাদরাসার কানুনসমূহ শুনিয়ে দেয়া হয়। একজন ছাত্র দিন রাতের চব্বিশ ঘণ্টা কীভাবে অতিবাহিত করবে তা বিস্তারিত আলোচনা করে জানিয়ে দেয়া হয়।
৭. তারবিয়তি রিপোর্ট তৈরি : জামিয়ার পক্ষ থেকে দেয়া আমলসমূহ বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা তা তদারকি করার জন্য প্রতি জামাতের নেগরানগণ ছাত্রদের পড়া-লেখা ও আমলের নেগরানি করেন। প্রতিনিয়ত তারা ছাত্রদের সামগ্রিক তারবিয়তি উন্নতির জন্য সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। সেই আলোকে প্রতি পরীক্ষার পর নির্দিষ্ট ৬টি বিষয়ে নির্দিষ্ট খাতায় রিপোর্ট লেখা হয়। বিশেষ মজলিসে তারবিয়তি কমতিগুলো নিয়ে সতর্ক করা হয়। যাদের সন্তোষজনক উন্নতি হয় না, তাদের নামে বছর শেষে চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হয়। এই রিপোর্টের উপরই পরবর্তী বছরের ভর্তি হওয়া না হওয়া নির্ভর করে।
এভাবে জামিয়ার প্রতিটি ছাত্রকে ইলমী মাহারাতের পাশাপাশি তাকে ইসলামী শিষ্টাচারে অভ্যস্ত করে গড়ে তোলা হয়।

