আলোকিত অতীত আমাদের পাথেয়, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ আমাদের লক্ষ্য

দারুল উলুম কুতুবখালী darul uloom kutubkhali

আলোকিত অতীত আমাদের পাথেয়, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ আমাদের লক্ষ্য

আলোকিত অতীত আমাদের পাথেয়, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ আমাদের লক্ষ্য

জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলুম কুতুবখালী ঢাকা-র মুদীর ও সাইখুল হাদিস
মুফতি ছাকিবুল কাসেমী হাফি.
এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

তিনি ১৯৮০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নরসিংদী সদর থানাধীন করিমপুর গ্রামের এক ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন । পিতা কে. এম. নুরুল ইসলাম একজন সৎ ও নীতিবান ব্যক্তি এবং দাদা জনাব সদর আলী ছিলেন এলাকার সর্বজন সম্মানিত ব্যক্তি। ধর্মপ্রাণ এই পরিবারেই মুফতি ছাকিবুল ইসলাম কাসেমী হাফি. এর শৈশব কেটেছে ।

শিক্ষা জীবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: তিনি শৈশবে মমতাময়ী মায়ের কাছে পড়াশোনা শুরু করেন এবং তাঁর আপন চাচা হাফেজ হারিছুল হক সাহেবের কাছে মক্তবে দ্বীনি শিক্ষা আরম্ভ করেন। ছগড়িয়াপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপন শেষে করিমপুর বাজার হাফিজিয়া মাদরাসায় হিফজ বিভাগে ভর্তি হন। হাফেজ আব্দুল বাছীর (রহ.)-এর কাছে ২১ পারা সম্পন্ন করার পর শেখেরচর জামিয়া এমদাদীয়ায় কিছুদিন অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী (রহ.)-এর প্রতিষ্ঠিত জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম সাহেপ্রতাবে ভর্তি হয়ে হিফজ সম্পন্ন করেন এবং শরহে বেকায়া পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে পড়াশোনা করেন।

এরপর বাংলার দারুল উলূম হাটহাজারীতে ভর্তি হয়ে হিদায়া আওয়ালাইন ও আখেরাইন জামাতের পাঠ সম্পন্ন করেন। পরে দারুল উলূম দেওবন্দের উদ্দেশ্যে সফর করেন এবং সেখানে মেশকাত, দাওরা ও তাফসীর বিভাগে অধ্যয়ন করেন। বাংলাদেশে ফিরে তিনি মাদানীনগর মাদরাসায় আদব বিভাগে শায়েখ সফিউল্লাহ ফুয়াদ সাহেবের তত্ত্বাবধানে অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে ইসলামী আইন ও সাহিত্য (লিটারেচার) বিষয়ে ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল মা’আরিফে অধ্যয়ন করেন। এছাড়াও উসুলে ফিকহ বিষয়ে মিশর ও বাংলাদেশের দুটি প্রতিষ্ঠানে দুটি কোর্স সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিউজ নেট নামক একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার সার্টিফিকেট অর্জন করেন।

কর্মজীবন: সুনামগঞ্জ জেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া মারকাজুল উলূমে তিরমিযী শরীফের দরসের মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবনের সূচনা হয়। এরপর দারুল উলূম মুকসেদপুর, দোহার (ঢাকা)-এ দুই বছর প্রিন্সিপালের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে জেলা শহর নরসিংদীতে আদব বিভাগসহ মেশকাত পর্যন্ত অধ্যয়নের ব্যবস্থা রেখে মারকাযুল কুরআন ওয়াস সুন্নাহ, নরসিংদী প্রতিষ্ঠা করেন এবং সেখানে তিন বছর দায়িত্ব পালন করেন। পরে ঢাকায় মাদরাসাতুল হারামাইন প্রতিষ্ঠা করে সরকারি অনুমোদনে দ্বীনি দরসিয়্যাতের শিক্ষকতা করার উদ্দেশ্যে মালয়েশিয়া গমন করেন। এর আগে তিনি পবিত্র উমরা সম্পন্ন করেন। মালয়েশিয়ায় তিন বছর কুরআন, হাদীস ও আরবি ভাষার তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দিয়ে উস্তাদ ও মুরুব্বীদের পরামর্শে পুনরায় দেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে পাঁচ বছর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ফারুকিয়া নানাখী, সোনারগাঁও-এ বোখারী শরীফ (প্রথম খণ্ড) সহ অন্যান্য দরসিয়াতের খেদমত আঞ্জাম দেন। পাশাপাশি বায়তুন নূর কেন্দ্রীয় শাহী জামে মসজিদ, সোনারগাঁও-এর খতীবের দায়িত্বও পালন করেন। বর্তমানে তিনি জামিয়া ইসলামিয়া দারুল উলূম কুতুবখালী, ঢাকা-এর মুদীর ও শায়খুল হাদীস এবং উত্তর কুতুবখালী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ-এর খতীব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি বেশ কিছু আঞ্চলিক ও জাতীয় দ্বীনি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। তদুপরি, ইসলামী কল্যাণ রাষ্ট্রকামী সকল দল ও জনতাকে ঐক্যবদ্ধ করার সুমহান লক্ষ্যে ১লা অক্টোবর ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে “কল্যাণ রাষ্ট্র পরিষদ বাংলাদেশ” নামে একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্মের যাত্রা শুরু করেন।

ছাত্রদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন- কুরআন ও সুন্নাহর আলোকিত পয়গামকে ইলমী, আমলী ও ফিকরীভাবে নিজের জীবনে ধারণ করো,তারপর তা সকলের মাঝে ছড়িয়ে দাও। কুরআনী জীবনব্যবস্থাকে সমাজে পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ো। জুলুম ও অবিচারে পূর্ণ সমাজকে মুক্ত করতে শরীয়াহভিত্তিক বিচারব্যবস্থা ও আদালত প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগী হও।

সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি, ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের বিশ্বস্ত ঠিকানা ইসলামী রাষ্ট্রব্যবস্থাকে

জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের জন্য পরম আরাধ্য ও কাঙ্ক্ষিত আদর্শে পরিণত করো।

Scroll to Top